এনএনসি রিপোর্টঃ ঝালকাঠি জেলাধীন কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জয়খালী হাফিজিয়া মাদরাসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হাফিজিয়া মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ আব্দুল লতিফ ২০২৩ সালে ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পূর্ব থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক মাহাতাব নিজেকে চেয়ারম্যান ও তার ভাগ্না আশিকুর রহমান সবুজকে সেক্রেটারি ঘোষণা দিয়ে হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার নামে দেশবিদেশ থেকে নানাভাবে দান অনুদান সংগ্রহ করে চলতো। প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ আব্দুল লতিফ ছোট হুজুর নাম ছাড়া কারো সাড়া না পেলেও মাহতাবের পিতার নামে মাদরাসাটি স্থায়ীভাবে পরিচালনা করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আর এই সুযোগটা তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলো প্রয়াত পয়সাওয়ালা সাইফুর রহমান মঞ্জু। নিঃসন্তান মঞ্জু তার সন্তানের লাভের দোয়ার জন্য এসে মাদরাসা ঘরটি পাকা করে দিয়েছিল। সেই ঘরটি এবং মাদরাসার সীমানায় মঞ্জুর ক্রয় করা জমি থাকায় মাহাতাব ও মঞ্জুর ভাই সবুজ পুরো মাদরাসার মালিক মনে করে। যদিও তার পরিবারের কেউ মাদরাসায় পড়েনি। অপরপক্ষে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ আব্দুল লতিফ ছোট হুজুর ১১ জন হাফেজ আওলাদ রেখে ইন্তেকাল করেছেন।
আলোচিত মাদরাসার সীমানায়ও যাতে প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের কোনো সদস্য প্রবেশের সুযোগ না পায়; সে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলো মাহাতাব গং। এমন নিপীড়নে অতিষ্ট ছোট হুজুরের পরিবারের পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে বহুবার শালিশ বৈঠক, ৪নং কাঠালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত, কাঠালিয়া থানা ও কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রাপ্ত রোয়েদাদেরও তোয়াক্কা করেনি মাহাতাব গং। মাহাতাব তার মনোপুত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরিকল্পনায় কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জয়খালী হাফিজিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতার ৩ ছেলে যথাক্রমে ১. হাফেজ মোঃ অলি উল্লাহ ২. মৌ. নূর ওবায়দুল্লাহ ও ৩. আলহাজ্ব মাসুম বিল্লাহ, সংগ্রহ বার্তার সম্পাদক ও জাতীয় সংবাদ সংগ্রহ সংস্থা এনএনসির প্রেসিডেন্টকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দাখিল করে। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ০৫.১০.৪২৪৩.০০২.১৪.১০১.২৪-০৮ নং স্মারকে ৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে উভয় পক্ষকে শুনানিতে হাজির হতে নোটিশ জারি করা হয়।
মাহাতাব গংএর অভিযোগের বিষয় দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস যাবৎ একাধিক বার শুনানি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন যে, উভয় পক্ষের সহযোগিতায় তিনি নিজেই মাদরাসাটি পরিচালনা করবেন। এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ঐদিন ১৯ মার্চ রাত ৭:৩০ মি. সময়ে মাহাতাবের একমাত্র ছেলে রাসেল ও তার গাঁজাখোর সহযোগী রিমন সংগ্রহ বার্তার সম্পাদককে হুমকি দেয়। কেনো তাদের ছবি তার পত্রিকায় ছেপেছে? কেনো মাদরাসা পরিচালনায় বাঁধা দিচ্ছে? এমনকি তাদের প্ররোচনায় মাহাতাবের খাদেম খলিল বলে- একটা মার্ডার না হলে মাদরাসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিবাদের মিমাংসা হবেনা।
খুন করে হলেও মাদরাসা দখলে চান মাহতাব গং। বিষয়টি কাঠালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত/জিডি হয়। জিডি নং ১২৮৪ তাং ২৮ মার্চ ২০২৫